ভাষা হিসেবে আরবি বেশ প্রাচীন এবং সমৃদ্ধ। সমৃদ্ধ হওয়ায় এ ভাষার ব্যবহার এবং ব্যপ্তি বিশ্বব্যাপী। আর এ কারনেই আনারবদের আরবি ভাষা শেখার প্রয়োজন পড়েছে দিন দিন।
পৃথিবীর প্রায় ২৮ কোটি জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষা আরবি। ২৫ কোটি মানুষ আরবিকে দ্বিতীয় ভাষা হিসেবে ব্যবহার করে। ২৫টি দেশের দাপ্তরিক ভাষা আরবি। অপর দিকে অর্থনৈতিক বিবেচনায় আরবি ভাষা বাংলাদেশের জন্য বেশি গুরত্ব রাখে। দেশের অর্থনীতির অন্যতম শক্তি ধরা হয় রেমিটেন্সকে; আর এ রেমিটেন্সের সিংহভাগই অর্জিত হয় আরবি ভাষার দেশসমূহ থেকে। এদেশের জনগণ যখন আরব দেশে যায়, তখন তারা ভাষা না জানায় বেশ বিড়ম্বনায় পড়ে। তারা যদি ভালভাবে আরবি ভাষা জানতো তবে আরবদেশে নিজেদের অবস্থান আরও মজবুত করতে পারতো। তাদের ন্যায্য সুযোগ-সুবিধা আরো বেশি আদায় করে নিতে পারতো। তাই বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরো চাঙ্গা করার লক্ষ্যে আরবি ভাষাকে অধিক গুরুত্ব দেয়া দরকার।
তাছাড়া এদেশের অধিকাংশ মানুষ মুসলিম, আর ইসলামের সকল বিধিবিধান হচ্ছে আরবি ভাষায়। যা আরবি ভাষা শেখার গুরুত্বকে অপরিহার্য করেছে। মুসলিম হিসেবে আমাদের প্রতিদিনের কর্মকান্ডে আরবির স্মরনাপন্ন হতেই হয়। কুরআন ও হাদীসের ভাষা আরবি। তাই ইসলাম ও মুসলমানের মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ ভাষা হয়ে দাড়িয়েছে আরবি ভাষা। মুসলমানদের জীবন-যাপনের প্রকৃত উৎস হলো কুরআন; আর তা অবতীর্ণ হয়েছে আরবি ভাষায়।
আল্লাহ তাআলা বলেন: ‘এইভাবে আমি কুরআন অবতীর্ণ করেছি বিধানরূপে আরবী ভাষায়।’ (সূরা রাদ: আয়াত ৩৭)।
‘এই রূপেই আমি কুরআনকে অবতীর্ণ করেছি আরবী ভাষায় এবং তাতে বিশদভাবে বিবৃত করেছি সতর্কবাণী, যাতে তারা ভয় করে অথবা এটা হয় তাদের জন্য উপদেশ।’ (সূরা তাহা: আয়াত ১১৩)।
‘আমিই আরবী ভাষায় কুরআন অবতীর্ণ করেছি। যেন তোমরা উপলব্ধি করতে পারো।’ (সুরা ইউসুফ: আয়াত ২)।
আল্লাহ তাআলা বার বার বলেছেন আরবি ভাষায় সতর্কবাণী হিসেবে, বিধান হিসেবে, উপদেশ হিসেবে, সাবধানতা অবলম্বনে স্পষ্টভাবে আরবি ভাষায় কুরআন নাযিল করা হয়েছে। এ থেকে স্পষ্ট হয় মুসলিম জীবনে আরবি ভাষা কতটুকু গুরুত্ব বহন করে। তাই সবার উচিত আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন করা এবং কর্তব্যও বটে।
আরবি ভাষা শেখার ক্ষেত্রে ওমর রা.-এর একটি উক্তি প্রণিধানযোগ্য। দ্বিতীয় খলীফা হযরত ওমর রা. বলেন: ‘তোমরা আরবি ভাষা শেখো। তা তোমাদের দীনের অংশ।’ (মাসবুকুয যাহাব ফি ফাদলিল আরব ওয়া শারফুল ইলমি আলা শারফিন নাসবি: ১/৯)।
এ ব্যাপারে আল্লামা ইবনে তাইমিয়া রহ.-এর একটি উক্তি স্মরণযোগ্য। তিনি বলেন, ‘আল্লাহ তাআলা আরবি ভাষায় কুরআন নাযিল করেছেন। আর রাসূল সা.-কে আরবি ভাষায় কুরআন ও সুন্নাহ প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন। দীনের প্রথম অনুসারীরা ছিল আরবিভাষী। তাই দীনের গভীর জ্ঞানার্জনের জন্য এই ভাষা অর্জন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। অতএব আরবি চর্চা করা দ্বীনেরই অংশ ও দ্বীনের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক।’ (মাজমুউল ফাতাওয়া: ৮/৩৪৩)।
জাগতিক দিক থেকে আমাদের দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ আরবদেশে বসবাস করে জীবিকার তাগিতে। তাই তাদেরকে ইচ্ছায় অনিচ্ছায় আরবি ভাষা শিখতে হয়। অপর দিকে একজন মানুষের আলেম হতে হলে আরবি ভাষা শিক্ষা করা অপরিহার্য। কারণ, দ্বীনের বিষয়ে ফাতোয়া দিতে হলে তাকে অবশ্যই আরবি ভাষায় পণ্ডিত হতে হবে। না হলে সে দ্বীনের বিষয়ে ফাতোয়া দিতে পারবে না। যদিও সে দ্বীনের দিকে আহ্বান করতে পারবে। সবদিক থেকে আরবি ভাষা আমাদের জীবন চলার ক্ষেত্রে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে।
আরবি ভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তার কিছু দিক তুলে ধরা হলো-
১. দ্বীন ইসলামের অংশ আরবি:
আরবি ভাষা কুরআন-হাদিসের ভাষা। দ্বীন ইসলামের ভাষা এবং দ্বীন ইসলামের অংশ। রাসুল সা. এ ভাষায় কথা বলেছেন। আরবি ভাষার প্রচার-প্রসার দ্বীন ইসলামের প্রচার প্রসার। ওমর রা. বলেন, ‘তোমরা আরবি শিক্ষা কর। কেননা, আরবি তোমাদের দ্বীনের অংশ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘তোমরা আরবি ভাষা শিক্ষা কর, তা জ্ঞান বৃদ্ধি করে।’ ইমাম ইবনু তাইমিয়া (রহ.) বলেন, ‘আরবি ভাষা দ্বীনের অন্তর্ভুক্ত। তা শিক্ষা করা আবশ্যক। কেননা, কুরআন-সুন্নাহ বোঝা আবশ্যক। আরবি বোঝা ছাড়া কুরআন-সুন্নাহ বোঝা যায় না। আর যার মাধ্যমে আবশ্যকীয় বিষয় জানা যায়, তা জানাও আবশ্যক।’ সুতরাং দ্বীনি দিক লক্ষ্য করে আরবি ভাষা শিখতে হবে। আর বর্তমান সময়ে সবাই তা শেখার জন্য অগ্রসর হচ্ছে।
২. বৈশ্বিক যোগাযোগ স্থাপনে:
কৌশলগত দিক থেকে আরবি ভাষা শিক্ষা করা প্রয়োজন। কেননা, আরবি ভাষা পৃথিবীর বিরাট অংশকে দখল করে আছে। সুতরাং আরবি ভাষা আন্তর্জাতিক ভাষা। ভৌগলিক, অর্থনৈতিক, সামরিক ও রাজনৈতিক দিক থেকে এর অনেক গুরুত্ব রয়েছে।
৩. জ্ঞান অর্জনে:
আরবি ভাষা জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও ঐতিহ্যের বিরাট এক অংশ বহন করে আছে। ইতিহাস ও সভ্যতার দিক থেকে এটা প্রমাণিত যে, আরবি ভাষার মাধ্যমেই ইউনানি জ্ঞান-বিজ্ঞান ও দর্শনের প্রচার-প্রসার হয়েছে জগতজুড়ে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশ থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে পড়াশোনার জন্য আসে। সেখানে তাদের ভর্তি হওয়া এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল লাভের জন্য আরবি ভাষায় দক্ষতা অর্জন জরুরি। কেননা, এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে আরবি ভাষায় দক্ষ ছাত্রদের প্রাধান্য দেয়া হয়।
৪. আরবি অধিক গ্রহনযোগ্য:
আরবি ভাষা গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে অন্য সব ভাষার তুলনায় শ্রেষ্ঠ। শব্দ, বাক্যগঠন প্রক্রিয়া অথবা উদ্দিষ্ট অর্থের ওপর পরিপূর্ণ ও সুন্দরভাবে মনের ভাব ব্যক্ত করার সক্ষমতা সব দিক থেকেই আরবি ভাষা শ্রেষ্ঠ। এসব দিক লক্ষ্য করে বর্তমানে আরবি ভাষা শুধু মুসলমানরাই শিখছে এমন নয়, বরং ইহুদি-খ্রিস্টানরাও ব্যাপকভাবে শিখছে ও দক্ষতা অর্জন করছে। বিশ্বের সব বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা বিভাগ রয়েছে। এর জন্য রয়েছে শিক্ষক। তাদের আরবি দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য আরবি ভাষা প্রশিক্ষণ কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য পাঠানো হয়।
৫. ক্যারিয়ার গঠনে:
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে অসংখ্য শ্রমিক, কর্মচারী ও ব্যবসায়ী মধ্যপ্রাচ্যে যাচ্ছে। কোম্পানি ও কারখানার মালিকরা আরবি ভাষায় দক্ষ লোকদের খোঁজে। যাদের আরবি ভাষায় মোটামুটি দক্ষতা রয়েছে, তারা ভালো বেতনে ভালো কাজ পেয়ে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে যেসব শ্রমিক ও কর্মচারীর আরবি ভাষায় কোনো ধরনের যোগ্যতা ও দক্ষতা না থাকে, তারা বিভিন্ন রকম অসুবিধার মুখোমুখি হয়। ফলে তারা নানা শ্রেণির ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে প্রতারিত হয়। আরব দূতাবাসে ভালো বেতনে চাকরির জন্য লোক খোঁজা হয়। এর জন্য আরবিতে দক্ষ ব্যক্তিদের প্রয়োজন। ইংরেজির পাশাপাশি কেউ যদি আরবিতেও দক্ষ হয়, তাহলে সেখানে উঁচু পর্যায়ের পদ পাওয়া যায়।
তাই আমাদের যদি আরবি ভাষা জানা না থাকে, তাহলে আমরা নানা ধরনের বাধার সম্মুখীন হতে পারি...
আরবি ভাষা শেখার এতসব গুরুত্ব অনুধাবন করে, এবং এদেশের মানুষের দ্বীন চর্চা ও দুনিয়াবি নানা কর্মকান্ডে আরবির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে, ইলাননূর ইনস্টিটিউট শুরু করেছে এক যুগান্তকারী কোর্সের, যেখানে শিশু-কিশোরদের আরবি শেখার সু-ব্যবস্থা রয়েছে—পৃথিবী বিখ্যাত অনারবদের আরবি শেখার সিরিজ ‘আরবি আমাদের হাতের মুঠোয়’ এর মাধ্যমে, পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্যও রয়েছে বিশেষ ট্রেনিং এর সুযোগ।
আমাদের কোর্স সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন:
শিশু-কিশোরদের জন্য: http://ilannoor.institute/course/86/arabic-at-our-hands
শিক্ষক প্রশিক্ষনের জন্য: https://www.ilannoor.institute/course/84/teachers-training-course